বিষ্ণুপুর | Bishnupur – temple City Of West Bengal

কোলকাতার আশেপাশে ঘুরে দেখার মত অনেক স্থান আছে , যাদের মধ্যে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর (Bishnupur) অন্যতম । এই বিষ্ণুপুর কে বাঁকুড়া জেলার মন্দিরের শহর ও বলা হয় এখনকার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা নির্মিত মন্দির এর জন্য ।

bishnupur tour guide in bengali
photo: Bankua Gov

প্রায় সপ্তদশ শতাব্দীতে মল্ল রাজারা এখানে তাদের রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন , বাংলায় পাথরের স্বল্প সরবরাহের কারণে, পোড়া মাটির ইট একটি বিকল্প হিসাবে এসেছিল এবং বাংলার স্থপতিরা ‘টেরাকোটা’ নামে পরিচিত একটি সুন্দর কারুকাজের নতুন উপায় খুঁজে পান, রাজা জগৎ মল্ল এবং তার বংশধরেরা পোড়ামাটির এবং পাথরের শিল্পের তৈরি অসংখ্য মন্দির তৈরি করেছিলেন।

bishnupur jormandir

অসম্ভব সুন্দর কারুকার্যে নির্মিত এই সব পুরনো মন্দির হিন্দু সংস্কৃতির বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরে , এছাড়াও এই বিষ্ণুপুর পরিচিত এখনকার বিশ্ব-বিখাত্য টেরাকোটা শিল্পের জন্য , টেরাকোটা(পোড়া মাটি) দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র , গয়না , বিভিন্ন মূর্তি এখানে পাওয়া যায় ওপর একটি বিখাত্য জিনিস হল এখনকার বালুচরি’ শাড়ি

কোলকাতা থেকে এই বিষ্ণুপুর এর দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিমি , তাই খুব সহজে এখানে আসা যেতে পারে এবং সাপ্তাহিক একটি ছুটি এখানে কাটিয়ে বিষ্ণুপুর এর টেরাকোটা নির্মিত প্রাচীন মন্দির গুলির ভাষ্কর্য ও বিভিন্ন টেরাকোটা শিল্পের স্বাদ গ্রহণ করা যেতেই পারে ।

যাদের হাতে সময় কম ও যারা একদিনে কোলকাতার আশেপাশে(Day trip near Kolkata) ঘুরতে যেতে চাইছেন তাদের জন্যও এই স্থানটি উপযুক্ত ,রেল ও সড়কপথে খুব ভালো সংযোগ থাকায় এখানে খুব সহজে পৌছে যাওয়া যায়

চলুন দেখে নেই এখানে কিভাবে পৌছবেন ? কী কী দেখবেন ? খরচ কত ইত্যাদি ।

Bishnupur Location | Bishnupur Distance from Kolkata

বাঁকুড়া জেলার পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি ছোটো শহর হল এই বিষ্ণুপুর , কোলকাতা থেকে বিষ্ণুপুর এর দূরত্ব প্রায় 140 কিমি ।

আরও দেখুন অফবিট নর্থ বেঙ্গল এর অজানা গ্রাম

How to reach Bishnupur from Kolkata

কোলকাতা থেকে বিষ্ণুপুর পৌছনর সব থেকে ভাল মাধ্যম হল ট্রেন , সাঁতরাগাছি থেকে সকাল ৬:28 এ রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস বা শালিমার থেকে সকাল ৭:৪৫ মিনিটে আরণ্যক এক্সপ্রেস ধরে পৌছে যেতে পারেন বিষ্ণুপুর সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা । এই ট্রেন গুলির ২nd সিটিং এর ভাড়া প্রায় ১০৫-১৫০ টাকা

এছাড়াও সড়কপথে বাস বা নিজস্য গাড়ি করে পৌছে যেতে পারেন বিষ্ণুপুর ।

Best Time to Visit Bishnupur

বছরের প্রায় যেকোনো দিন এখানে আসা যেতে পারে ।

Bishnupur Hotel number | Where to stay in Bishnupur

বিষ্ণুপুর এ থাকার জন্য আপনার অনেক হোটেল লজ পেয়ে যাবেন , বিষ্ণুপুর স্টেশন এর বাইরে এই সমস্ত হোটেল বা লজ গুলি আপনি পেয়ে যাবেন , এই হোটেল বা লজ গুলির ভাড়া আনুমানিক ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এসি বা নন-এসি রুম হিসেবে ভাড়া কম বেশি হবে ।

এছাড়াও আপনারা চাইলে ওয়েস্ট বেঙ্গল টুরিজম এর বাংলো তেও থাকতে পারেন তবে তার জন্য আগের থেকে বুকিং করে যাওয়া দরকারী ।

Things to do in Bishhnupur | what to see in Bishnupur

এবার আসি আপনারা বিষ্ণুপুর এ কী কী দেখবেন, কীভাবে ঘুরবেন ইত্যাদি ….

বিষ্ণুপুর এ ঘুরে দেখার মত অনেক পুরোনো মন্দির আছে ,এই মন্দির গুলি ঘুরে দেখার জন্য আপনারা টোটো বা অটো বুক করে ফেলতে পারেন । সমস্ত স্থানগুলি ঘুরে দেখাবার জন্য এই টোটো বা অটো গুলি ২০০ – ২৫০ টাকা নেবে এবং প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা সময়ে আপনাদের এই সমস্ত স্থানগুলি ঘুরিয়ে দেখাবে ।

এছাড়াও আপনারা যেখানে থাকবেন (হোটেল বা লজ ) সেখান থেকে কথা বলেও আপনারা এই সমস্ত স্থান ঘুরে দেখতে পারেন ।

চলুন দেখে নেই আপনারা কী কী দেখবেন ….

  • রসমঞ্চা : রাজা হাম্বির ১৬০০ খ্রিস্টাব্দেএটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, লাটেরাইট বেদীর উপর নির্মিত এই মন্দিরটি মিশরের পিরামিড এর নেয় গঠন আকৃতি । পোড়া মাটির খিলান দিয়ে নির্মিত অসংখ চেম্বার নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মন্দিরটি । এই রসমঞ্চা তে প্রবেশ করতে গেলে আপনাদের ২৫ টাকার একটি টিকিট কাটতে হবে এবং বাকি অব মন্দিরে প্রবেশ আপনি ওই একই টিকিট দেখিয়ে করতে পারবেন ।
  • মৃন্ময়ী মন্দির : রাজা জগৎ মল্ল এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, দেবী দুর্গা এখানে মা মৃন্ময়ী রূপে পূজিত হন । “মহাষ্টমী-সন্ধিপূজা” পবিত্র মুহূর্তে, এখানে একটি কামান দাগানো হয় এবং তারপরে শাকসবজি বলি দেওয়া হয়।
  •  জোড়বাংলা : মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গের পোড়ামাটির শিল্পের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ এবং একটি অনন্য স্থাপত্য কাঠামোর মালিক। বিশেষ ‘দো চালা’ আকৃতির কারণে মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জোড়বাংলা । পোড়ামাটির কাহিনী দিয়ে সজ্জিত প্যানেলগুলি ‘ভীষ্মের সরসজ্জা’, ‘রাম-সীতার বিবাহ’, ‘দুই পুত্রের সাথে মা পার্বতী’, ‘বালগোপালের ক্রিয়াকলাপ’, ‘লক্ষ্মণ ও শূর্পনখার গল্প’ এবং আরও অনেক কিছুর মতো মহাকাব্যিক দৃশ্যগুলি সুন্দরভাবে চিত্রিত করে ।
  • শ্যাম রায় : এটি ‘পাঁচ-চূড়া’ মন্দির নামে পরিচিত কারণ এর পাঁচটি চূড়া রয়েছে । এটি বিষ্ণুপুরের অন্যতম তারকা আকর্ষণ কারণ এর অভ্যন্তর এবং বাহ্যিক উভয় প্যানেলে শ্বাসরুদ্ধকর পোড়ামাটির শিল্প । এই মন্দিরের আরেকটি আকর্ষণ হ’ল একটি বিশাল রাসচক্র যা ‘গোপিনীদের মধ্যে রাধা-কৃষ্ণ লীলা’র বিভিন্ন রূপকে চিত্রিত করে ।
  • মদনমোহন মন্দির : মল্ল রাজা দুর্জন সিংহ দেব ১৬৯৪ সালে ভগবান মদনমোহনের নামে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি আজ অবধি একটি সক্রিয় মন্দির।
  • গার দর্জা : বিষ্ণুপুরে দুর্গের দুটি গর্বিত প্রবেশদ্বার রয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাদের ‘গার দর্জা’ বলে সম্বোধন করে। ‘মুর্চা পাহাড়’-এর পাশেই চোখে পড়বে পাথরের তৈরি ছোট একটি ঢিবি। ছোট গেট পেরিয়ে একটা বিশাল ফটক আসে যেটা ছিল বিষ্ণুপুর রাজরাজ্যের প্রবেশপথ।
  •  লালবাঁধ- ইতিহাস জলে :  পানীয় জলের জন্য এবং শত্রুদের হাত থেকে শহরকে রক্ষা করার জন্য হ্রদ তৈরি করা হয়েছিল। মল্ল রাজ রঘুনাথ সিংহ লালবাই নামে এক পারস্য নর্তকীর প্রতি মোহিত ছিলেন বলে জানা যায়। তিনি তাকে নিজের সুরক্ষায় নিয়ে যান এবং পরে লালবাঁধ নামে এই বড় পুকুরটি খনন করেন।

এই সমস্ত স্থানগুলি আপনারা এখানে ঘুরে দেখতে পারেন , এছাড়াও এখনকার পোড়া মাটির হাট থেকে নানা টেরাকোটার সামগ্রী , বাঁকুড়ার প্রসিদ্ধ গামছা , বালুচরি শাড়ি ও কিনতে পারেন । এই সমস্ত স্থান দেখে আপনার চাইলে বিকেলের ট্রেন ধরে ফিরে আসতে পারেন কোলকাতাতে বা থেকে জেতে পারেন ।

আসা করি আপনাদের বিষ্ণুপুর ভ্রমণ সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকবে ও আপনাদের ভ্রমণে সাহায্য করবে । আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন ও নিজেদের প্রিয়জনদের মাঝে এটি শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

আরও দেখুন –

Leave a Comment